জাতীয়

একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলাম

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেছেন যে, কোনো ব্যবসার সফলতা শুধু উদ্যোক্তার দক্ষতা বা রাজনৈতিক আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে না; বরং সরকারের প্রবৃদ্ধিবান্ধব নীতিমালাও ব্যবসার সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) আয়োজিত দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও এক্সপোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আমি দেশি-বিদেশি সব বিনিয়োগকারীর প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই—বাংলাদেশে আসুন, নতুন উদ্যোগ নিন এবং আপনাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করুন। আপনারা যখন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবেন, তখন সরকারও সময়োপযোগী নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে আপনাদের পাশে থাকবে। এটি শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, আমাদের সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সম্ভাবনার পরিধি আরও বড়। দ্রুত সম্প্রসারণশীল অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ ও কর্মক্ষম জনশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসমর্থনপুষ্ট সরকার—এসব শক্তি বাংলাদেশকে টেকসই সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছে।

সরকারপ্রধান জানান, সরকারের লক্ষ্য একটি নিয়মভিত্তিক, বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত এবং বেসরকারি খাতনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা প্রদান করেছে। তিনি বিনিয়োগকারীদের শুধু বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বানই জানাননি, বরং দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের বিশ্বস্ত অংশীদার হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাসের মধ্যেই সরকার অর্থনৈতিক সংস্কারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নির্বাচনের আগেই বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী সংগঠন, অর্থনীতিবিদ, উন্নয়ন সহযোগী ও নীতিনির্ধারকদের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তাদের পরামর্শের ভিত্তিতে সরকার বিনিয়োগের আইনি সুরক্ষা জোরদার, আধুনিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তোলা, করব্যবস্থা সহজীকরণ, মুনাফা প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করা, পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বর্তমানে আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আধুনিকায়ন, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের সংস্কার, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং অপ্রয়োজনীয় আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে কাজ করছে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তা উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধ শিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, তৈরি পোশাক খাতের বহুমুখীকরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

বক্তব্যের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শুধু বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি, আস্থাভিত্তিক অংশীদারিত্বের ওপরও নির্ভর করে। তিনি দেশি-বিদেশি ব্যবসায়িক নেতাদের বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার অংশ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আসুন, আমরা একসঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি, বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করি এবং সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button