

আগামী দিনে দেশকে সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ রাখার পাশাপাশি ইসলামী মূল্যবোধের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ওপর আস্থা রাখছেন দেশের বিভিন্ন স্তরের শীর্ষ আলেমরা। তারা ভোটারদের ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এই আহ্বান মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুমিনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে অনলাইন-অফলাইনে জামায়াত-শিবিরের উগ্র কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। তারা দেশের শীর্ষ আলেম এবং জাতীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে নেগেটিভ মন্তব্য ও কটূক্তি করছে। এছাড়া, জামায়াত সাধারণ জনগণের কাছে নিজেদের ইসলামী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করলেও আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে তারা নিজেদের সেকুলার হিসেবে দাবি করছে। এই কারণে দেশের বিভিন্ন ঘরানার শীর্ষ আলেমরা জামায়াত জোটের প্রার্থীদের নয়, বরং বিএনপির প্রতীক ধানের শীষকে সমর্থন দিয়েছেন।
বিএনপি ও ধানের শীষকে সমর্থনকারী আলেমদের মধ্যে রয়েছেন—হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, বেফাক ও হাইয়্যার চেয়ারম্যান আল্লামা শায়েখ মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, ফুলতলী দরবার, ছারছিনার দরবার, মাইজভান্ডার দরবার, জৈনপুরের দরবারের পীর মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী, ঢালকানগর পীর সাহেব শায়েখ আব্দুল মতিন, মুফতি জাফর আহমদ, মুফতি মনসুরুল হক, মাওলানা শওকত হোসেন সরকার, ইসলামী ঐক্যজোট এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের দুই অংশ।
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৭ বছরে ভারতের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের কারণে দেশে এই দুরবস্থা তৈরি হয়েছিল। জামায়াত মাত্র দেড় বছরে আমেরিকার প্রভাবের কারণে আরও বেশি অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। দেশের সাধারণ জনগণ সিনিয়র রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও ইসলামী নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে তাদের উগ্র ও আগ্রাসী আচরণের কারণে আতঙ্কিত।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী দিনে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীলতা থেকে রক্ষা করতে এবং দেশের স্বাভাবিক অবস্থাকে বজায় রাখতে বিএনপি ও ধানের শীষের বিকল্প নেই।”



