

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করা হবে। ঘটনার প্রায় ছয় বছর পর এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়ে রায়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার রায় ঘোষণা করবেন। এর আগে গত বুধবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে আদালত রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বুধবার মামলার রায় ঘোষণা করা হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি গত বছরের মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ২৪ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ভুক্তভোগী, তাঁর স্বামী, আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, এমসি কলেজের অধ্যাপক এবং সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক। সাক্ষ্যগ্রহণ চলাকালে ভুক্তভোগীর সাক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে গেলেও তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাব অভিযান চালিয়ে নাম উল্লেখিত ছয়জনসহ মোট আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়।
২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
মামলার আসামিরা হলেন সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক, অর্জুন লস্কর, আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল এবং মাহফুজুর রহমান। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা সবাই ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।



