পুলিশ পরিচয়ে ফোন, ওটিপি নিয়ে মৌলভীবাজার প্রবাসীর স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হলো ২ লাখ টাকা


অনলাইন নিউজ ডেস্ক
পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে ভয়ভীতি দেখিয়ে মৌলভীবাজারে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে দুই লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী রত্নারানী দেব মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আজমেরু গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী রমা দেব ওমানে কর্মরত।
পরিবারের অভিযোগ, সম্প্রতি রত্নারানীর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে। কলদাতা নিজেকে বাংলাদেশ পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তাঁর নামে জাল টাকার একটি মামলা রয়েছে এবং ব্যাংক ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট শিগগিরই বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মামলা থেকে রক্ষা এবং অ্যাকাউন্ট সচল রাখার কথা বলে প্রতারকরা রত্নারানীর কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি, ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য এবং মোবাইলে আসা একাধিক ওটিপি (ওয়ান-টাইম পাসওয়ার্ড) সংগ্রহ করে। এরপর তাঁর আইএফআইসি ব্যাংক হিসাব থেকে ধাপে ধাপে মোট দুই লাখ টাকা বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীর দাবি, ওই অর্থ তাঁর প্রবাসী স্বামীর পাঠানো সঞ্চয় ছিল। তিনি বলেন, প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে ওটিপি দেওয়ার কিছুক্ষণ পর ব্যাংকে গিয়ে দেখেন, অ্যাকাউন্টে আর কোনো টাকা নেই।
পরিবারের সদস্যরা প্রশ্ন তুলেছেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা থাকার তথ্য প্রতারকদের কাছে কীভাবে পৌঁছাল। এ ঘটনায় কোনো অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাহক নিজেই ওটিপি শেয়ার করায় লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাংকের পক্ষে অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন রত্নারানী দেব।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বরাবরই সতর্ক করে আসছে, পুলিশ বা অন্য কোনো সরকারি সংস্থা কখনো ফোন করে ওটিপি, পিন নম্বর বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য চায় না। এ ধরনের কল পেলে কোনো তথ্য শেয়ার না করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও নিকটস্থ থানায় দ্রুত যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



