

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, পরাজিত শক্তির আস্ফালন স্বাভাবিক হলেও তাদের অপচেষ্টা জুলাইপন্থী শক্তির ঐক্যকে আরও সুসংহত করবে। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা সমুন্নত রেখে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই এবি পার্টির প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে উত্তরা ও রামপুরা এলাকায় অংশগ্রহণকারী দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান।
মঞ্জু বলেন, জুলাই আন্দোলনের কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে তা গঠনমূলকভাবে তুলে ধরা হবে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে হেয় করার কোনো অপচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, যারা বর্তমানে জুলাই আন্দোলনকে খাটো করার চেষ্টা করছে, অতীতে তারা জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও সক্রিয় ছিল না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দলের ভূমিকা ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় দলের কার্যালয় গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিল, নেতা-কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং কারফিউ উপেক্ষা করে কর্মসূচি পালন করেছেন।
তিনি বলেন, এবি পার্টি জনগণকেই আন্দোলনের মূল শক্তি হিসেবে বিশ্বাস করে। শূন্য থেকে গড়ে ওঠা একটি অর্গানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে শুরু থেকেই তারা ঝুঁকি নিয়ে রাজনীতি করেছে বলেও মন্তব্য করেন।
মঞ্জু বলেন, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির পরিবর্তে এবি পার্টি মধ্যপন্থার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। দলটি ধর্মীয় রাজনৈতিক দল না হলেও ধর্মভিত্তিক দলগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখে এবং রাজনৈতিক সৌজন্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার নীতিতে এগিয়ে যেতে চায়। তিনি জানান, এখন এবি পার্টির রাজনীতির দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয়েছে, যেখানে গণভিত্তিক ও ভোটের রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সভায় দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান বলেন, এবি পার্টির রাজনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় শত প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে ছিলেন এবং ভবিষ্যতের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায়ও তারা প্রস্তুত থাকবেন।
যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও বেগবান করে যুব পার্টিকে শক্তিশালী করা হবে।
এ সময় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতা উপস্থিত ছিলেন।



