জাতীয়

ঘোড়াশাল সার কারখানায় চাঁদাবাজির অভিযোগ, প্রতি মাসে তোলা হয় ৩৫ লাখ টাকা

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানা থেকে সার পরিবহনকারী ট্রাক থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) কেন্দ্রীয় কমিটির মহাপরিচালক, পলাশ থানা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং বিসিআইসির নিবন্ধিত সার ডিলার মো. সাইদুর রহমান হুমায়ুন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে নরসিংদী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, সারবাহী প্রতিটি ট্রাক থেকে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ১৭০টি ট্রাক থেকে এভাবে অর্থ নেওয়া হয়, যার পরিমাণ মাসে প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।

লিখিত বক্তব্যে সাইদুর রহমান হুমায়ুন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ ঘোড়াশাল ইউরিয়া সার কারখানায় প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদিত হয়। বিসিআইসির নিবন্ধিত ডিলারদের মাধ্যমে এসব সার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, নিয়ম অনুযায়ী সার লোডিংয়ের জন্য বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ ও বিল পরিশোধ করলেও বর্তমানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জামালপুরের জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজ এবং এর স্থানীয় এজেন্ট জাকির হোসেনের নেতৃত্বে কারখানা এলাকায় সারবাহী ট্রাক থেকে বেআইনিভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে।

তার দাবি, ৫ আগস্টের পর প্রতিটি ট্রাক থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হলেও ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর তা বাড়িয়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাইদুর রহমান হুমায়ুন আরও দাবি করেন, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে বিসিআইসির নিবন্ধিত সার ডিলার হিসেবে ব্যবসা করছেন এবং সম্প্রতি বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাপরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জাকির হোসেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় সাইদুর রহমান হুমায়ুনের নির্দেশে তাকে মারধর করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি সাইদুর রহমান হুমায়ুনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে পলাশ থানায় মামলা করেছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন বলেন, সার কারখানার ভেতরে সার লোডিং ও আনলোডিংয়ের বিষয়টি কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে সাইদুর রহমান হুমায়ুন তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং সার কারখানা এলাকায় ট্রাক থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button