

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা বৃদ্ধি এবং দেশপ্রেমের চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ১৫৩ জন জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে নিয়ে রাজধানীতে একটি ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়েছে। এ উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
সোমবার (৮ জুন) অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ শিক্ষা সফরে শিক্ষার্থীরা জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ পাঠাগার, সংসদ অধিবেশন কক্ষের গ্যালারি, নভোথিয়েটার এবং বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর পরিদর্শন করে। সফরজুড়ে সংসদ সদস্য নিজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থেকে বিভিন্ন স্থাপনার ইতিহাস, গুরুত্ব ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।
সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সংসদ অধিবেশন কক্ষের গ্যালারিতে বসে সরাসরি সংসদীয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়। পাশাপাশি তারা সংসদ পাঠাগার ঘুরে দেখে দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা অর্জন করে।
এছাড়া নভোথিয়েটার এবং বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশের বিজ্ঞানচর্চা, সামরিক ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধ এবং বীরত্বগাথার নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ লাভ করে।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, “শিক্ষার পরিধি শুধু শ্রেণিকক্ষ বা পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, জাতীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে প্রত্যক্ষ জ্ঞান তাদের চিন্তাভাবনা ও মূল্যবোধ গঠনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
সফরে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, জাতীয় সংসদ ভবন ও সামরিক জাদুঘরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান সরাসরি পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও শিক্ষণীয় ছিল। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও শিক্ষা সফরের আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে।
শিক্ষাবিদরাও উদ্যোগটির প্রশংসা করেছেন। দেবিদ্বার ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন এবং দেবিদ্বার মফিজ উদ্দিন আহাম্মদ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মুজিবুর রহমান বলেন, এ ধরনের শিক্ষা সফর শিক্ষার্থীদের জ্ঞান ও দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এটি তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্ববোধ এবং দেশ গঠনের প্রত্যয় জাগ্রত করতে সহায়ক হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু একটি ভ্রমণ নয়; বরং বাস্তব শিক্ষা, জাতীয় চেতনা এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ অর্জনের একটি কার্যকর অনুশীলন।



