রাজনীতি

দুর্নীতি বন্ধে সরকার ব্যর্থ, নৈতিকভাবে ক্ষমতায় থাকার অধিকার হারিয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন নিউজ ডেস্ক

বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নবনির্বাচিত সরকার নিজেই স্বীকার করছে যে দেশে দুর্নীতি বেড়েছে। তাঁর প্রশ্ন, যদি সরকারের সব সিদ্ধান্ত তারেক রহমানের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়, তবে সেই নির্দেশনায় দুর্নীতি কেন বন্ধ হচ্ছে না।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-আন্দোলনের অর্জন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর একার নয়; এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের সম্মিলিত অর্জন। তিনি বলেন, আন্দোলনের শহীদরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নন, বরং জাতির সম্পদ। তাই জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সম্মান এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ১ আগস্ট তৎকালীন সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি জনগণের আন্দোলন ও আল্লাহর ইচ্ছার ফল।

জুলাই আন্দোলনে শ্রমিকদের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদের মধ্যে পেশাভিত্তিক হিসেবে শ্রমিকের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছেন ছাত্র এবং সাধারণ জনগণ।

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি কমেনি, বরং বেড়েছে। পরিবহন শ্রমিকরা এখনও চাঁদাবাজদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের মারধর, গাড়ি ভাঙচুর এবং নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কথা স্বীকার করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নৈতিকভাবে ক্ষমতায় থাকার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ব্যর্থতার দায় স্বীকার করার পর সরকারের দেশ পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি আর থাকে না।

পরিবহন শ্রমিকদের ১২ দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় পাশে থাকবে।

জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে কোনো একক ব্যক্তি বা দলের দাবি না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটি ছিল সমগ্র জাতির আন্দোলন। আহত ও পঙ্গু হয়ে যাওয়া আন্দোলনকারীদের পুনর্বাসন এবং মর্যাদা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

গণভোটের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ যে রায় দিয়েছে, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী হলে সেই রায় মেনে নিতে হবে। জনগণের রায় অস্বীকার করা মানে জনগণকে অসম্মান করা। জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার বিরোধিতা করা হবে বলেও তিনি জানান।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কবির আহমদ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button