

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সফরের সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবির বলেন, তারেক রহমানের দিল্লি সফরের কোনো তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সফরের বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যাব—এটা ঠিক আছে। কিন্তু কোনো তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সময় নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।’
গত ৫ আগস্ট দিল্লিতে একটি সম্মেলনে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনা বক্তব্য দেন। ওই ঘটনার পরদিন বাংলাদেশ এর প্রতিবাদ জানায়। এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে।
তিনি বলেন, ‘আলোচনা চলছিল। এর মধ্যে ৫ আগস্টের একটি ঘটনা ঘটেছে, যা বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এখন আলোচনা চলছে। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সময় অনুকূল হলে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন।’
ভারত থেকে পালিয়ে আসা কোনো সন্ত্রাসীকে বাংলাদেশ আশ্রয় দেবে না এবং বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া কোনো সন্ত্রাসীকে ভারতও তাদের ভূখণ্ডে আশ্রয় দেবে না—এমন সহযোগিতা দুই দেশের কাছ থেকে প্রত্যাশা করে ঢাকা। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে তা পারস্পরিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে হুমায়ুন কবির বলেন, সব দেশের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। কোনো একটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিকল্প হিসেবে দেখছে না সরকার।
এদিকে দেশের বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়ন ও উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব ও গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ জন্য যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট ও উড়োজাহাজের নেটওয়ার্ক বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এভিয়েশন সেক্টরে যাত্রীসেবা পূরণ করতে হবে এবং বাংলাদেশকে এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাব ও গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের এয়ারক্রাফট নেটওয়ার্ক বর্তমানে যাত্রীদের চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত নয়।
উড়োজাহাজ কেনার সক্ষমতা প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনার সক্ষমতাও তৈরি হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম বৈঠকের পর বাংলাদেশ এতে যুক্ত হতে পারে—এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনো আলোচনা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি জানান, কোনো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।



