

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
গাজীপুরের সিফাত আব্দুল্লাহকে গ্রেফতারের ঘটনায় প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা। তিনি বলেছেন, সিফাতের বক্তব্যের ভাষা অশালীন হলেও শুধু গালিগালাজের কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। বরং তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে।
বাসায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গালিগালাজ করে ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহকে আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে গাজীপুরের আদালতে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা ৩১ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন তাসনিম জারা।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সিফাতের ভাষা ভদ্র ছিল না। এটা নিয়ে তর্ক করার কিছু নেই। কিন্তু প্রশ্নটা ভদ্রতার নয়। কারণ সিফাতকে অভদ্রতার জন্য গ্রেফতার করা হয়নি। মামলা দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। তাহলে গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস?’
তাসনিম জারা বলেন, সিফাতের গ্রেফতারের প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যারা লিখছেন, তাদের অনেকের মন্তব্যের ঘরেও গালিগালাজ দেখা যাচ্ছে। অথচ তারা মনে করছেন, সিফাত গালি দেওয়ায় তাকে আটক করা সঠিক হয়েছে। তার মতে, বিষয়টির মধ্যে এক ধরনের বৈপরীত্য রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তারা নিজেরাই গালি দিয়ে সেটা বলছেন। এবং তাদের কোনো ভয় নাই। কারণ তারা জানেন গালিটা তারা কাকে দিচ্ছেন, আর কাকে দিচ্ছেন না। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন কাউকে গালি দিলে সেটা অপরাধ, ক্ষমতায় না থাকা কাউকে দিলে সেটা গ্রহণযোগ্য।’
কোন ধরনের বক্তব্য, লেখা বা ছবি প্রকাশ করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হয়রানির আশঙ্কা থাকবে না—এমন একটি তালিকা প্রকাশেরও দাবি জানান তিনি।
তাসনিম জারা লেখেন, ‘আপনারা একটা তালিকা করে দিন। কী কী লিখলে, কী কী আঁকলে, বিলের কাগজ হাতে নিয়ে কী কী বললে রাত সাড়ে আটটায় দরজায় পুলিশ আসবে না। লিখে দিন। আমরা মেনে চলব।’
এমন তালিকা দিতে অস্বস্তি হলে সংশ্লিষ্টদের নিজেদের সংযত করার আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে সিফাত আব্দুল্লাহকে দ্রুত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তাসনিম জারা। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং কথা বলার ক্ষেত্রে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যেসব ধারা প্রয়োগ করা যেতে পারে, সেগুলো সংশোধনের আহ্বান জানান তিনি।



