

অনলাইন নিউজ ডেস্ক
কেপ ভার্দের বিশ্বকাপ রূপকথার অন্যতম নায়ক ছিলেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সেও দুর্দান্ত সব সেভ করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে আসা এই গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে ব্রাজিলের দুটি ক্লাব।
ইতালিয়ান সাংবাদিক ফাব্রিজিও রোমানোর তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের আভাই এফসি ও আতলেতিকো গোইয়ানিয়েন্সে ইতোমধ্যে ভোজিনহার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
সবশেষ পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব শাভিসের হয়ে খেলেছেন কেপ ভার্দের এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। গত মৌসুম শেষে ক্লাবটির সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে তিনি ফ্রি এজেন্ট।
বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের স্মরণীয় যাত্রার পেছনে ভোজিনহার অবদান ছিল অসাধারণ। স্পেনের বিপক্ষে দলের প্রথম ম্যাচে সাতটি দুর্দান্ত সেভ করে তিনি গোলশূন্য ড্র নিশ্চিত করেন। সেই ম্যাচের পরই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন তিনি।
এরপর উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ ড্রয়ের ম্যাচেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেভ করেন ভোজিনহা। সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ে তিনটি সেভ করে আবারও দলের নির্ভরতার প্রতীক হয়ে ওঠেন।
তবে সবচেয়ে বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। শেষ বত্রিশের সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচে কেপ ভার্দে ৩-২ গোলে হারলেও ভোজিনহা করেন আটটি অবিশ্বাস্য সেভ। একের পর এক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দিয়ে তিনি আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগকে ভোগান্তিতে ফেলেন। পুরো টুর্নামেন্টে চার ম্যাচে তার মোট সেভের সংখ্যা ছিল ১৮টি।
বয়সকে যেন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই খেলেছেন ভোজিনহা। তার ফিটনেস, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নেতৃত্ব মুগ্ধ করেছে ফুটবলপ্রেমীদের।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে ভোজিনহার অনুসারী ছিল প্রায় ৫০ হাজার। কেপ ভার্দের স্বপ্নময় অভিযানে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখে।
শুধু সমর্থকদের ভালোবাসাই নয়, ইউরোপের বাইরে ক্লাবগুলোর নজরও কেড়েছেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। ব্রাজিলের দুই ক্লাবের আগ্রহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া ভোজিনহার ক্যারিয়ারে হয়তো শুরু হতে যাচ্ছে আরেকটি নতুন অধ্যায়।



