সারাদেশ

নওগাঁয় ১৬ মাসের শিশুকন্যাকে নদীতে ফেলে মায়ের থানায় আত্মসমর্পণ

নওগাঁর পত্নীতলায় ১৬ মাসের শিশুকন্যাকে আত্রাই নদীতে ফেলে দেওয়ার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন এক মা। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির তৎপরতায় শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে শিশুটি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পত্নীতলা উপজেলার মাহমুদপুর সেতু থেকে ওই মা তাঁর ১৬ মাসের মেয়েকে আত্রাই নদীতে ফেলে দেন। ঘটনার পর তিনি সরাসরি পত্নীতলা থানায় গিয়ে পুলিশকে জানান যে তিনি নিজের সন্তানকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন এবং তাঁকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ করেন।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা খমির শেখ (৬৫) নদীর তীরে শিশুটিকে শুশ্রূষা করছেন। তিনি জানান, নদীতে ডুবন্ত অবস্থায় শিশুটিকে দেখে দ্রুত উদ্ধার করেন। পরে বিশেষ কৌশলে শিশুর পেট থেকে পানি বের করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এরপর পুলিশ শিশুটিকে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কামুক্ত।

পুলিশ জানায়, শিশুটির জন্মের পর থেকেই ওই মা অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। পরিবারের দাবি, তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে শিশুটিকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মাহমুদপুর সেতুতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটান।

শিশুটির বাবা বলেন, তাঁর স্ত্রী কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “আমরা বুঝতে পারিনি বিষয়টি এত দূর গড়াবে। এখন মেয়ের দেখভাল পরিবারের অন্য সদস্যরা করছেন। মানসিক অসুস্থতার কারণে আপাতত আমার স্ত্রীকে শিশুর কাছে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং শিশুটিকে নিরাপদে চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ওই নারী মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চিকিৎসার জন্য তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে জীবন বাঁচানোয় খমির শেখকে পুলিশের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button